পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হানিয়া আমির। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড থেকে সমাজমাধ্যম—সব জায়গাতেই তাঁর উপস্থিতি নজরকাড়া। ভারতের দর্শকদের মধ্যেও রয়েছে তাঁর বিপুল জনপ্রিয়তা। কিন্তু বলিউডে অভিষেকের মুখেই বাধার মুখে পড়লেন হানিয়া। পাঞ্জাবি তারকা দিলজিৎ দোসাঞ্জের সঙ্গে অভিনীত ছবি ‘সর্দারজি ৩’ মুক্তি পাওয়ার আগেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। পহেলগাঁও হামলার পর ভারতীয় চলচ্চিত্র মহলে পাকিস্তানি শিল্পীদের নিষিদ্ধ করার ডাক ওঠে, আর তারই জেরে মুখ থুবড়ে পড়ছে হানিয়ার সিনেমা মুক্তির স্বপ্ন। শুধু সিনেমা নয়, সমাজমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা, রাজনৈতিক সংগঠনের চাপ—সব মিলিয়ে এখন হানিয়ার নাম জড়িয়ে আছে বড় বিতর্কে।

১৯৯৭ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রাওয়ালপিন্ডিতে জন্ম হানিয়ার। ২০১৬ সালে ‘জনান’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। তবে ভারতেও তাঁর জনপ্রিয়তা ছড়ায় ধারাবাহিক ‘মেরে হামসফর’-এর হাত ধরে। একাধিক আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনের মুখ হিসেবেও তাঁকে দেখা গিয়েছে।

এক সময় পাকিস্তানি ক্রিকেটার বাবর আজমের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন ছিল। ভারতীয়দের একাংশ হানিয়াকে তুলনা করতে শুরু করেন অনুষ্কা শর্মার সঙ্গে। এমনকি ভাইরাল একটি ভিডিয়োয় বিরাট-অনুষ্কার মুখ কেটে বসানো হয় বাবর-হানিয়ার মুখ।

দিলজিতের এই ছবি যাতে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র না পায়, সেই দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপির চলচ্চিত্র সংগঠন ‘চিত্রপট কামগার আঘাড়ি’। এর ফলে আপাতত ভারতে মুক্তি পাচ্ছে না ‘সর্দারজি ৩’। যদিও ছবির শুটিং শেষ হয়েছিল পহেলগাঁও ঘটনার আগেই, তবুও হানিয়াকে বাদ দেওয়ার জন্য বহুদিন ধরেই চাপ ছিল।

সামাজিক মাধ্যমে নিজের অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করলেও, পহেলগাঁও কাণ্ডে হানিয়া স্পষ্টভাবে জঙ্গি কার্যকলাপের নিন্দা করে একটি পোস্ট করেন। তাতে তিনি লেখেন, “নিরীহ মানুষের মৃত্যু সব দেশেই সমান ভাবে বেদনাদায়ক।” এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি লিখেছিলেন, “জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করুন, কিন্তু সাধারণ পাকিস্তানিদের যেন শাস্তি না হয়।”

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ঘটে যায় এক ভয়াবহ জঙ্গি হামলা। এরপরই ভারতের ফেডারেশন অফ ওয়েস্টার্ন ইন্ডিয়া সিনে এমপ্লয়িজ (FWICE) ঘোষণা করে, কোনও ভারতীয় তারকা যদি পাকিস্তানি শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি, দেশদ্রোহের মামলাও হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

২০২৪ সালে লন্ডনে এক মিউজিক কনসার্টে প্রথম দেখা হয় হানিয়া ও দিলজিতের। সেখানেই দু’জনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। পরে সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয় ‘সর্দারজি ৩’-এর শুটিং চলাকালীন। একই ছবিতে রয়েছেন পাকিস্তানি অভিনেতা নাসির চিনোতি, ড্যানিয়েল খাওয়ার ও সালিম আলবেলাও।

পাকিস্তানের অন্যতম জনপ্রিয় ও সর্বোচ্চ উপার্জনকারী অভিনেত্রী হানিয়া আমির আবারও শিরোনামে। তবে এবার আর অভিনয় নয়, বিতর্কই মূল কারণ। চলতি সপ্তাহে মুক্তি পাওয়ার কথা পাঞ্জাবি ছবি ‘সর্দারজি ৩’, যেখানে হানিয়ার অভিনয় ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্কের ঝড়।
