দিনশেষে সেটা হয়তো আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, সেই ব্যক্তিগত পছন্দের ভুল সিদ্ধান্তই হতে পারে এক ভয়ঙ্কর বিপদের কারণ। অন্তর্বাস বেছে নেওয়ার মতো ছোট বিষয়ও যে পুরুষের বন্ধ্যাত্বের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত—সেই তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।

পুরুষের যৌনাঙ্গ শরীরের বাইরে থাকে বলেই তার তাপমাত্রা শরীরের তুলনায় কম থাকা জরুরি। টাইট অন্তর্বাস এই প্রাকৃতিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় বাঁধা দেয়, যা অণ্ডকোষের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে।

৬৫৬ জন পুরুষের মধ্যে অর্ধেকের বেশি জানিয়েছেন, তাঁরা বক্সার পরে। যাঁরা ঢিলেঢালা অন্তর্বাস পরতেন, তাঁদের শুক্রাণুর ঘনত্ব ২৫% বেশি, সংখ্যা ১৭% বেশি এবং গতি ৩৩% বেশি ছিল টাইট অন্তর্বাস পরা পুরুষদের তুলনায়।

আমেরিকান সোসাইটি ফর রিপ্রোডাক্টিভ মেডিসিন জানাচ্ছে, স্পার্ম অ্যানালিসিসের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয় শুক্রাণুর পরিমাণ, ঘনত্ব, গতি ও আকার। এসব বিশ্লেষণই বলে দেয় পুরুষটি কতটা উর্বর।

২০০০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ১৮-৫৬ বছর বয়সী পুরুষদের নিয়ে গবেষণা হয়, যাঁরা ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। বীর্য ও রক্তের নমুনা নেওয়া হয় তাঁদের কাছ থেকে।

গবেষণা বলছে, যারা নিয়মিত টাইট-ফিটিং অন্তর্বাস পরে, তাদের মধ্যে ফলিকল-উত্তেজক হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে। এই হরমোন শুক্রাণু উৎপাদন বাড়ালেও, টাইট অন্তর্বাসের কারণে অণ্ডকোষে চাপ পড়ে, যা শেষমেশ শুক্রাণুর মান নষ্ট করতে পারে।

হার্ভার্ডের লিডিয়া মিঙ্গুয়েজ-আলারকন-এর মতে, পুরুষের অন্তর্বাস নির্বাচন সরাসরি প্রভাব ফেলে অণ্ডকোষের কার্যকারিতায়। দীর্ঘদিন ধরে গবেষণার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুল অন্তর্বাস পরার কারণে পুরুষদের শুক্রাণুর ঘনত্ব কমে যেতে পারে। ‘হিউম্যান রিপ্রোডাকশন’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা অনুযায়ী, যারা ঢিলেঢালা বক্সার পরে, তাঁদের শুক্রাণুর ঘনত্ব, গতি ও সংখ্যা বেশি হয় টাইট অন্তর্বাস পরা পুরুষদের তুলনায়।
